1. tanvir.love24@gmail.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  2. news@nagornews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

‘অমি ভাই আমাকে হঠাৎ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন’

  • সময়: সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮ বার

শিমুল শর্মা। অভিনেতা ও নির্মাতা। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের আলোচিত এই অভিনেতাকে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গেছে ‘শর্টকাট’ নামের একক নাটকে। দর্শক মনোযোগ কেড়ে নেওয়া এই নাটকে অভিনয়, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে

এই প্রথম কোনো নাটকের কেন্দ্রেীয় চরিত্রে আপনাকে দেখা গেল। কেমন ছিল ‘শর্টকাট’ নাটকের অভিজ্ঞতা?

মামুন চরিত্রটি নিজের তৈরি করা বলেই অভিনয় নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি। ‘শর্টকাট’ নাটকের গল্পকারও আমি। তাই যেভাবে চরিত্র পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছি, সেভাবেই অভিনয় করে গেছি। অভিনয়ের বিষয়ে পরিচালক মাজিদুল ইসলাম আর প্রযোজক সুফিয়ান রায়হান সবরকম স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এ জন্য কখনও মনে হয়নি প্রথমবারের মতো কোনো গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছি।

‘শর্টকাট’ নাটকটি দেখার পর দর্শকরা কী বলছেন?

‘শর্টকাট’ দর্শকের মধ্যে আলোড়ন তুলেবে, অভিনয় করে অনেক প্রশংসা পাব– এত বেশি প্রত্যাশা ছিল না। তারপরও অনেকে যখন বলেছেন, নাটকটি তাদের ভালো লেগেছে, তখন মনের ভেতর এক ধরনের ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করেছে। সব মিলিয়ে যতটুকু সাড়া পেয়েছি, তাতেই আমি খুশি।

অভিনেত্রী হিসেবে লামিমা লামকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কি আপনারই ছিল? 

লামিমাকে অভিনেত্রী হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা আমার একার নয়। প্রযোজক, পরিচালকেরও সম্মতি ছিল। সত্যি এটাই, নিজের লেখা গল্পে নিজে অভিনয় করব– এ কথাই কখনও ভাবিনি। এটি হয়েছে প্রযোজকের সুফিয়ান রায়হানের কারণে। তাঁকে একদিন আমার গল্পটা শোনালাম। শুনে বললেন, গল্পটা তো বেশ মজার, এসো নাটক বানিয়ে ফেলি। ‘মামুন’ চরিত্রটা তুমিই কর। ব্যস কথা এটুকুই। আমিও ভাবলাম, ঠিক আছে নিজেই অভিনয় করি। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু আমার বিপরীতে কে থাকবে, সেটাই ছিল চিন্তার বিষয়। নাটকের প্রস্তুতি যখন চলছে, সে সময় আমি আর লামিমা একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। সেখানে যেতে যেতেই লামিমাকে ‘শর্টকাট’ গল্পটা শোনাই। লামিমা গল্প পছন্দ করে। তাই আমিও প্রস্তাব দিই আমার বিপরীতে অভিনয়ের। কিছুক্ষণ ভেবে লামিমা আমার প্রস্তাবে সাড়া দেয়। আমরা একসঙ্গে বেশ কিছু কাজ করেছি এবং সেগুলো দর্শক পছন্দও করেছেন। কাজের বিষয়ে আমাদের বোঝাপড়াও ভালো। তাই প্রযোজক, পরিচালক দুজনেই আমার বিপরীতে লামিমাকে রাখা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি।

আপনাকে সবসময় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। এ নিয়ে মনের ভেতর কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে? 

একেবারেই না। সত্যি হলো, আমি কখনও অভিনয় করার কথাই ভাবিনি। পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলাম। অমি ভাই একদিন হঠাৎ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। শুরুতে নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু অভিনয় শুরুর পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু কল্পনাতেও ছিল না, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে ‘ব্যাচেলর রমাদান’, ‘ব্যাচেলর ফুটবল’, ‘দই’, ‘গুডবাজ’, ‘অদ্ভুত’, ‘দ্য সিক্রেট’, ‘কিডনি’, ‘বিদেশ’, ‘ফিমেল’, ‘শেষমেশ’সহ অমি ভাইয়ের প্রতিটি কাজে অভিনয় করার সুযোগ হবে। শুধু অমি ভাইয়ের চাওয়ায় অভিনয় করে গেছি। তাই চরিত্র ছোট না বড়, ইতিবাচক না নেতিবাচক তা নিয়ে ভাবিনি। আসলে আমি যে চরিত্রগুলো পর্দায় তুলে ধরেছি, সে ধরনের চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের কেউ অভিনয় করত কিনা বলা কঠিন। সাধারণত এ ধরনের ছোট ছোট নেতিবাচক চরিত্রে অনেকেরই আগ্রহ নেই। তারপরও আমি সেসব চরিত্রে অভিনয় করেছি নির্মাণ ও অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখার তাগিদে। কিন্তু এসব চরিত্রও যে দর্শকমনে গেঁথে যেতে পারে, তা ভাবনায় ছিল না। আমার অভিনীত চরিত্রগুলো বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ম্যাজিকটা আসলে কাজল আরেফিন অমির।

অমির প্রতিটি কাজে আপনাকে দেখা যায়। কিন্তু ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র নতুন সিজনে কেন নেই?  

গল্পে প্রয়োজনে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ আমার চরিত্রটি আনা হয়েছিল। ঠিক গল্পের কারণেই নতুন সিজনে আমার চরিত্রটি রাখা হয়নি। কিছু মানুষের প্রশ্ন– ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের কারণে অমি ভাই আমাকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ দিয়েছেন। যারা এমন কিছু ভাবছেন, তাদের সোজাসুজি বলি– এমন কোনো কিছুই আমাদের মধ্যে হয়নি। কারণ আমাদের সম্পর্কটা গুরু-শিষ্যের।

অনেকদিন তো পরিচালক কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে কাজ করলেন। নিজে পরিচালনায় আসছেন কবে?      

অনেকে জানেন না, এরই মধ্যে পরিচালনা শুরু করে দিয়েছি। শুটিং চলছে। কী কাজ, কে কে থাকছেন? এসব প্রশ্নে আপাতত কিছু বলছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এ বিষয়ে শিগগিরই একটা ঘোষণা দেব। তখন না হয় বিস্তারিত বলা যাবে।

আপনার কি মনে হয় পরিচালক হিসেবে কাজল আরেফিন অমির ছায়া থেকে সরে আসতে পারবেন? 

পরিচালনার সবকিছু কাজল আরেফিন অমির কাছে শেখা। তিনি আমার গুরু। তাই পরিচালক হিসেবে যা কিছু করতে চাই, সেখানে অমি ভাইয়ের শেখানো বিষয়গুলো তো উঠে আসা স্বাভাবিক। গল্প ও চরিত্র উপস্থাপনের ভঙ্গি, দৃশ্যধারণ, সম্পাদনা থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপে তাঁর শিক্ষাই কাজে লাগবে। তাই এটাই সত্যি, অমি ভাইয়ের ছায়া থেকে সরে আসা অসম্ভব।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন