ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ টি আসনে জয় লাভ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সারাদেশে ৩০ টি আসনে নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। জোট গঠনের আগে নানান সমীকরণ সামনে এলেও শেষমেষ জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে তারা। ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা তরুণদের রাজনৈতিক দলটির নির্বাচনের ফল নিয়ে নানান মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রশ্ন উঠছে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন করে কতটা লাভবান হলো এনসিপি।
যেভাবে জামায়াত জোটে এনসিপি
গত বছর শেষার্ধে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসছিলো জোটের রাজনীতি নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছিল। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বড় দল হিসেবে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত ইসলামের উত্থান ঘটে। ফলে এই দুই দল ঘিরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাইনারি জোট গঠনের আলাপ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি একক নির্বাচন করবে, নাকি বড় দলগুলোর জোটে ঝুঁকে পড়বে তা নিয়েও আলোচনা ছিলো। তবে সব সমীকরণ একপাশে রেখে নভেম্বর মাসে সারাদেশে ৩০০ আসনে একক নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলো এনসিপি। সেসময় গণমাধ্যমকে দলের আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ‘শাপলা কলি’ মার্কায় আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব ইনশাল্লাহ।”
এটা অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক যে তরুণদের ভয়েসটা সংসদে যাচ্ছে। তবে তাদের ফাইটিং স্পিরিট নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। কারণ তারা জুলাই ঘোষণাপত্রে কম্প্রমাইজ করেছে, সনদে কম্প্রমাইজ করেছে এবং তাদের যে গ্লোবাল লিডার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেটা থেকে তারা একটা নির্বাচনে আসনে এসে ঠেকেছে।- খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সাবেক যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক
এরপর গত ৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর এনসিপির মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রমে ৩০০ আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৪৮৪ টি মনোনয়ন পত্র বিক্রি করে দলটি। ১০ ডিসেম্বর ১২৫ টি আসনে দলে প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি। তবে শেষমেষ জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা আসে এনসিপির পক্ষ থেকে। ২৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন, জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক হলেও এনসিপির পক্ষ থেকে তিনটি কারণকে সামনে আনা হয়। এরমধ্যে অন্যতম গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। সেক্ষেত্রে গণভোটে এনসিপির প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘হা’ ভোটের পক্ষে অবস্থান ছিলো জোটের। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর অভ্যুত্থানের নেতাদের নিরাপত্তা ইস্যু। এছাড়াও নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়া।
যদিও এই জোট নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিদ্রোহের মুখে পড়তে হয় এনসিপিকে। এরমধ্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিতর্কিত অবস্থানে থাকার কারণে জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির রাজনৈতিক দল হিসেবে কতটা যৌক্তিক হলো, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। যার রেশ দেখা যায় নবীন এই দলটির অন্দরেও। দলের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় দেড় ডজন নেতাসহ সারাদেশে তৃণমূল নেতৃত্বের একটি অংশ পদত্যাগ করে। অপর একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
জনগণের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পেরেছে অভ্যুত্থানের নেতারা, ভোটের ফলাফলে যা বোঝা গেলো
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। প্রায় ১ বছরের মাথায় এসে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০ টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে ও জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় এনসিপি। এরমধ্যে ৬টি আসনে জয়লাভ করে দলটির প্রার্থীরা। যদিও নির্বাচনের আগে দলটি আশা করেছিল ১২ থেকে ১৫ টি আসনে জয়লাভ করতে পারে তারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এমন তথ্য দেখা গেছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেছিলেন, “সারা দেশে ৩০টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শাপলা কলির প্রার্থীরা। প্রত্যেকটা জায়গায় খুবই শক্ত অবস্থানে আছে, ১২ থেকে ১৩ টি আসনে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে আছে। সর্বশেষ প্রচারণার দিন গণমিছিলগুলো, এর আগে জনসভাগুলোতে বিশাল জনসমুদ্র দেখা গেছে।”
মাত্র ১০ মাসে ৬টা আসন পেয়েছে এবং একটা তরুণদের দল হিসেবে যথেষ্ট ভালো করেছে। সামনে যখন তারা আরো অভিজ্ঞ হবে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে অবস্থান তৈরি হবে সেক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী, তৃতীয় শক্তির যে একটা চাহিদা বাংলাদেশে আছে সেটা পূর্ণতা পাবে।-আবু বাকের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় ছাত্রশক্তি
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০টি আসনে এনসিপি ভোট পেয়েছে ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১টি, যা মোট ভোটের ৩.২১ শতাংশ। এনসিপি প্রার্থীদের জয় পাওয়া ৬ টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করা ও বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীরা ও একটি আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী। এনসিপি প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আতিক মুজাহিদ। তিনি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৬ ভোট ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। ঢাকা-১১ আসনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২০২ ভোট, ৫ হাজার ৯৯০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট, ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। কুমিল্লা–৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট, ১ লাখ ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি। নোয়াখালী-৬ আসনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট, ২৭ হাজার ৯২০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন হান্নান মাসুদ। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট, ২৫ হাজার ৪৫২ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন তিনি।
জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে এনসিপি জনআকাঙ্খার জায়গা কতটা ধরে রাখতে পেরেছে, ভোটের ফলাফল থেকে কি বোঝা যাচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা সাবেক যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটা অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক যে তরুণদের ভয়েসটা সংসদে যাচ্ছে। তবে তাদের ফাইটিং স্পিরিট নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। কারণ তারা জুলাই ঘোষণাপত্রে কম্প্রমাইজ করেছে, সনদে কম্প্রমাইজ করেছে এবং তাদের যে গ্লোবাল লিডার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেটা থেকে তারা একটা নির্বাচনে আসনে এসে ঠেকেছে।
তিনি আরও বলেন, এটাও সত্য যে আকাঙ্ক্ষা, নতুন সংবিধান এবং সেকেন্ড রিপাবলিকের দাবিতে তারা মাঠে নেমেছিল, লাখ লাখ মানুষ তাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল, সেই জায়গায় কিন্তু জনগণ এক ধরনের বিটট্রেইড হয়েছে। এটা পরিস্থিতির কারণে বা রাজনৈতিক বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ত।
এনসিপি নির্বাচনী জনসভায় সমর্থকরা
এনসিপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’-এর সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার মনে করেন, আন্দোলন ও নির্বাচন দুইটি ভিন্ন বিষয়। তার মতে, জুলাইয়ের ছাত্র নেতাদের জন্য নির্বাচন করার উপযোগী পরিবেশ ছিলো না। কারণ হিসেবে নির্বাচনের জন্য কৌশল, বয়স ও অবস্থান তৈরির বিয়য়ে জোর দিচ্ছেন তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানে ২০ বছরের একজন তরুণ নেতৃত্ব দিতে পারে কিন্তু নির্বাচন করতে ২৫ বছর হওয়া লাগবে। নির্বাচন করতে হলে প্রস্ততির দরকার আছে, পরিকল্পনার বিষয় আছে, সেগুলো অবলম্বন সংগঠন বাড়ানোর বিষয় আছে। জুলাইয়ের সাথে যদি আপনি নির্বাচনকে তুলনা করেন, যেমন আমি জুলাইয়ে একদম ফ্রন্ট লাইনে ছিলাম, সবকিছুতেই কন্ট্রিবিউশন ছিল আমি নির্বাচন করিনি বা আমার নির্বাচন করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার সেটা হয়নি। এখানে বেশিরভাগ ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে, জেলা পর্যায়গুলোতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা বেশিরভাগই আপনার স্নাতক তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, মাত্র ১০ মাসে ৬টা আসন পেয়েছে এবং একটা তরুণদের দল হিসেবে যথেষ্ট ভালো করেছে। সামনে যখন তারা আরো অভিজ্ঞ হবে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে অবস্থান তৈরি হবে সেক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী, তৃতীয় শক্তির যে একটা চাহিদা বাংলাদেশে আছে সেটা পূর্ণতা পাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চাকেন্দ্রের পরিচালক ড. আইনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তারা আন্দোলন করেছে এবং লাখ লাখ মানুষ নেমে এসেছে, এটা একটা ধরনের বাস্তবতা। আর নির্বাচনি কৌশল কিংবা রাজনৈতিক কৌশল ব্যাপারটা আলাদা। নতুন দল হিসেবে ৩০টা আসনে নির্বাচন করে ৬ টা আসনে জয় লাভ করা, নবীন দল হিসেবে, রাজনীতিতে অভিজ্ঞ লোকবল নেই, লোকজন নেই, আমি মনে করি তারা ভালো করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক কাঠামো যাদের শক্তিশালী তারা নির্বাচনে ভালো করে। স্থানীয়ভাবে তারা শক্তিশালী হতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, যে ছয়টা আসন পেয়েছে এটা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যাত্রাকে সুসংগত করেছে। বাংলাদেশে যে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুইটা দলের বাইরে কাউকে মেনে নিতে চায় না। নির্বাচন না হওয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে একটা চাপে রাখা যেমন জামায়াত ইসলামকে যেভাবে চাপে রেখেছিল বা বিএনপিকে যেভাবে মামলা দিয়ে আটকে রেখেছিল, সামগ্রিকভাবে কিন্তু ওই আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনে এনসিপির এই নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছে। এনসিপি যারা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল তারা যখন বিভিন্নভাবে বিভক্ত হয়ে গেল তখনই কিন্তু রাজনৈতিক যে আপিলটা তারা আস্তে আস্তে হারাতে শুরু করল। যদি এমন হতো যে জুলাইয়ের যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা সবাই একসাথে আছে তাহলে এক ধরনের ফলাফল হতো। কিন্তু জুলাইয়ের নেতৃত্বে যারা ছিল তারা কিন্তু বিভিন্নভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে আগেও এনসিপি থেকে অনেক নেতা বের হয়ে গেছে। দল থেকে অনেকে নির্বাচন করে নাই এটাও কিন্তু সামগ্রিকভাবে সাংগঠনিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে এভাবে বিভক্তি না হলে হয়তো তারা নির্বাচন আরো ভালো করতো।
জামায়াত জোটে এসে কতটা লাভবান হলো এনসিপি
এনসিপি নেতারা মনে করছেন, জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে লাভবান হয়েছে দলটি। এর কারণ হিসেবে নির্বাচনে ১০ দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন ও এনসিপির পক্ষে প্রচেষ্টা ছাড়াও সংস্কার প্রশ্নে জোটের অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা মনে করি জোটে হওয়াতে খুব চমৎকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বেড়েছে। এছাড়াও একসাথে গেলে আমরা একক শক্তি থাকলাম; কিন্তু ১০ জনকে সাথে নেওয়াতে আমরা ১০টা মানুষ বেশি পেলাম। সুতরাং ১১ দলীয় জোট যে ভোট পেয়েছে, তা অবশ্যই আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। এখন আমরা চিন্তা করছি, জোটকে কাজে লাগিয়ে আরও দীর্ঘসময় ধরে কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি।
এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত মনে করেন, জনগণ এই জোটকে গ্রহণ করেছে। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, আমরা জোট গঠন করেছিলাম সংস্কার প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। রাষ্ট্রের যে কাঠামোগত রূপান্তরের বিষয়ে জুলাই সনদে এবং জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে আমরা আলোচনা করেছিলাম, সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য। নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি বা লাভ-ক্ষতির হিসাবটা মুখ্য ছিল না। প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। সুতরাং, জনগণ একটি আমানত আমাদের কাছে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের একটি রায় হয়েছে, যেখানে গণভোটে জনগণের রায়ে ‘হ্যাঁ’ বিপুল পরিমাণ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে। ফলে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই হবে আমাদের এই জোটের লক্ষ্য। এটা একটি নির্বাচনি জোট ছিল। এই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে যাওয়া। ফলে আমাদের নিজস্ব লাভ ক্ষতির হিসেব আমরা করছি না। আমাদের লাভ-ক্ষতির হিসাব হবে – আমরা কতটুকু সংস্কার প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো, বেগবান করতে পারবো, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবো। তার ওপর। সেটা দিয়ে আসলে নিরূপিত হবে যে আমাদের এই জোটটা কতটুকু সফল হতে পেরেছে। এটা শুধুমাত্র নির্বাচন দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না।
আমরা মনে করি জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত খুব চমৎকার। আমাদের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বেড়েছে। ১১ দলীয় জোট যে ভোট পেয়েছে, তা অবশ্যই আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। এখন আমরা চিন্তা করছি, জোটকে কাজে লাগিয়ে আরও দীর্ঘসময় ধরে কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি।-জয়নাল আবেদীন শিশির, যুগ্ম সদস্য সচিব
জোটবদ্ধ নির্বাচন এনসিপিকে লাভবান করেছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, এককভাবে নির্বাচন করে তারা যদি একজনও যদি সংসদে না যেত, তারপরও ৩০০ আসনে তাদের সংগঠনটা দাঁড়িয়ে যেত। পিপলস ভয়েস হিসেবে মাঠের সবচাইতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে মাঠে থাকতো। কিন্তু এখন তারা সংসদে গেছে, ইতিবাচক বিষয়, তরুণ নেতৃত্ব সংসদে গেছে।
ড. আইনুল ইসলাম মনে করেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন করার কারণে এনসিপি লাভবান হয়েছে। তিনি বলেন, এই ছয়টা আসন হয়তো ওরা নাও পেতে পারত যদি জামায়াতের সাথে জোট না করতো। প্রথমে বিএনপির সাথে চেষ্টা করেছে, পরে জামায়াতের সাথে ওদের বোঝাবুঝি হয়েছে। ফলে নির্বাচনি জোটের জায়গা থেকে তারা ভালো করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করলে বা মানুষের যে তাদের উপর একটা আস্থা ছিল, বিশেষ করে টিন-এজারদের যে আস্থা ছিল, তরুণদের যে আস্থা ছিল সেটা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে। জামায়াতের সাথে জোটে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা তাদের জন্য ভালো হবে না। নির্বাচনের জায়গা থেকে জোটের সিদ্ধান্তটা ভালো হয়েছে। জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য এইযে ছয়টি আসন জিতেছে। অন্যদিকে জামায়াতের অনেকগুলো আসনে দেখা যাচ্ছে যে এনসিপির সাথে জোট ভালো রোল প্লে করেছে। বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতও এতটা সিট পেতনা। সবমিলিয়ে জোটটা উভয়পক্ষের জন্য ভালো হয়েছে। তবে যদি বিএনপির সাথে এনসিপির জোটটা হতো তাহলে এনসিপির আসন সংখ্যা আরও বেশি হতো।
Leave a Reply