1. tanvir.love24@gmail.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  2. news@nagornews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

জকসুতে শিক্ষার্থীদের ভোট টানতে ছাত্রদলের আচরণবিধি লঙ্ঘন , জিএস-এজিএসের দায় স্বীকার

  • সময়: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে জকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ ও উপহার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেন। একই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মো. আতিকুর রহমান তানজিল শিক্ষার্থীদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন। এসব কর্মকাণ্ড জকসু নির্বাচন আচরণবিধি ১১-এর ঙ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের ভেতরে। এ বিষয়ে জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা নিজেও টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

টাকা বিতরণের একটি ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো জামা ও অফ-হোয়াইট হিজাব পরিহিত খাদিজাতুল কুবরা হল সংসদ নির্বাচনের জিএস প্রার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলির উপস্থিতিতে হলের ছাত্রীদের একটি তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা প্রদান করছেন। এছাড়া হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এজিএস প্রার্থী তানজিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।

জকসু নির্বাচন আচরণবিধির ১১-এর ঙ ধারায় বলা হয়েছে, ভোটারদের কোনো ধরনের পানীয়, খাদ্য বা উপঢৌকন প্রদান করা যাবে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে খাদিজাতুল কুবরা বলেন, বৃত্তির নামে দেওয়া অর্থ পূর্বঘোষিত ছিল। তাঁর ভাষায়, তিনি আগেই মেধাবৃত্তি বা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ীই টাকা বিতরণ করা হয়েছে। টাকা দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এর প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে অর্থ বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে, এজিএস প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল বলেন, তিনি নিজে কোনো উপহার বিতরণ করেননি। তবে পরে জানতে পেরেছেন, তাঁর কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেট বিতরণ করেছেন। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে সেটি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টাকা বিতরণের সময় খাদিজাতুল কুবরা প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রাকিবের পক্ষেও ভোট চান বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে রাকিব বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। তাঁর দাবি, জিএস প্রার্থী যদি এমন কিছু করতেন, তবে তিনি জানতেন। শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে ভোট চাওয়া হলে তার প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীরাই জানাতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে তাঁর হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, গত দুই দিনে মেধাবৃত্তির নামে শিক্ষার্থীদের একটি রেস্তোরাঁয় ডেকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি দেখা করার কথা বলেন।

এদিকে, জকসু নির্বাচনের আগে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজনসহ একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছেন ছাত্র শক্তি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা এই দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, হল প্রভোস্টের এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

হল প্রভোস্ট আঞ্জমান আরা বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

 

আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন