রুমীর দুই সংসারই ভেঙে গিয়েছিল, মৃত্যু নিয়ে যা বলছে পরিবার

রাজধানীর জিগাতলায় একটি নারী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমীর (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মুখ খুলেছে তার পরিবার। পুলিশ ইতোমধ্যে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমা বেগম লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। একই থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, রুমীর স্থায়ী ঠিকানা নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। তার বাবার নাম জাকির হোসেন। রুমী ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নার্সিং সম্পন্ন করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথাও কর্মরত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রুমীর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, জিগাতলার একটি মেসে থাকতেন রুমী। ইতিপূর্বে তার দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং দুটি সংসারই ভেঙে গেছে। তার দুটি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে তাদের বাবার কাছে থাকে। তিনি আরও জানান, রুমীর রুমমেট বাড়িতে থাকায় বুধবার রাতে তিনি ওই রুমে একাই ছিলেন। তবে একই ফ্ল্যাটের পাশের রুমে অন্য সদস্যরা ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতে কাজের বুয়া ৫ম তলায় ওই ফ্ল্যাটের সামনে গেলে দরজা খোলা এবং ভেতরে বাতি জ্বলতে দেখেন। কৌতূহলবশত ভেতরে উঁকি দিলে তিনি রুমীকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং চিৎকার করে সবাইকে ডেকে তোলেন।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বজনরা জানান, ব্যক্তিগত ও সাংসারিক জীবনের নানা জটিলতা এবং পারিবারিক হতাশা থেকে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিস্তারিত তদন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।